এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে বৃত্তি পাচ্ছেন ১০ হাজার শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফল প্রকাশ করেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন সরকারপ্রধান।

এর আগে গতকাল শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের ফল প্রকাশের তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।

প্রতিবছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণার পরই ভালো ফল করা কলেজগুলোতে উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায় পরীক্ষার্থীদের। এ বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে হয়তো তেমন চিত্রটি দেখা যাবে না। তবে শতভাগ শিক্ষার্থী যেহেতু পাস করবে, সেক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্বস্তির কারণ হবে নিশ্চয়।

২০২০ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ১ এপ্রিল। পরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এর আগেই ১৭ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হয়।

এরপর দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি না হলে আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এইচএসসি পরীক্ষা প্রথমে স্থগিত ও পরে গত ৭ অক্টোবর এই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

সেদিনই সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও এবার নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেছিলেন, অষ্টম শ্রেণির সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে এবারের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।

পরে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, অধ্যাদেশ জারি না করে সরাসরি এ অধিবেশনের শুরুতে বিলটি উত্থাপন করে পাস করার ব্যবস্থা করা হবে। সংসদে এ–সংক্রান্ত তিন বিল উত্থাপন করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ ও ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১’ সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

২৫ জানুয়ারি পাস হওয়া বিলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্মতি দিলে সেগুলো আইনে পরিণত হয়। সেদিনই এ–সংক্রান্ত সংশোধিত আইন ২৫ জানুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। ফলে পরীক্ষা না হলেও ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের ফলপ্রকাশে সব বাধা দূর হয়ে যায়।