করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষাকে গতিশীল করতে ৬ দফা প্রস্তাবনা

জেনারেশন রিপোর্ট

করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষাকে গতিশীল করতে ছয় দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্বাধীনতা শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো-

১. করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা কিংবা বিশেষ বৃত্তি বা অনুদানের ব্যবস্থা নেওয়া। সব শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে ডিভাইস, খাতা-কলমসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে (স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি) শিক্ষার্থীদের দুপুরে সরকারি উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করা।

২. দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন হতাশা, মোবাইল কিংবা ইন্টারনেট আসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে অনেক শিক্ষার্থী এমনকি অনেক অভিভাবকরাও মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্নায়ু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. এফিলিয়েশনপ্রাপ্ত সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহ এমপিওভুক্ত এবং অবিলম্বে ঐচ্ছিক বদলি বাস্তবায়ন করা।

৪. এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি অনুরূপ শতভাগ বোনাস, উৎসব ভাতা, মেডিকেল ভাতা ও বাড়িভাড়া প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে ঐতিহাসিক মুজিব জন্মশতবর্ষের মধ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের শুভ সূচনার লক্ষ্যে বাজেটে বরাদ্দ রাখা।

৫. কারিগরি তথা কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। এ লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে ঢেলে সাজানো এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন চৌকস ব্যক্তিদের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পদায়ন করা।

৬. অন্তত দুটি শিক্ষা সেশনের মেয়াদ এক বছরের স্থলে আট থেকে নয় মাস করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।

তিনি বলেন, করোনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু শিক্ষার যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের বাজেট কমিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।