‘কালচারাল ক্লাসিসিস্ট’ প্রতিভা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম

জেনারেশন ডেস্ক

কেউবা আঁকছেন প্রিয় ব্যক্তির ছবি, কেউ গাইছেন প্রিয় শিল্পীর গান, কেউ নাচছেন প্রিয় গানের সঙ্গে, আবার কেউবা দেখাচ্ছেন নিজের ভিন্নরকম প্রতিভা। অনেকে হাতে গিটার নিয়েই কভার করে ফেলছেন অসাধারণ কিছু গান, রঙ-তুলি নিয়ে এঁকে দেখাচ্ছেন ভিন্ন রকম দৃশ্য, কেউ হাতে ক্যামেরা নিয়ে ভিন্ন ধরনের ছবি তুলে প্রকাশ করছেন।

বিশাল এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা ২০২০ সালের ১৮ মে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করোনার জন্য। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমছে ফেসবুকের গ্রুপ চ্যাটে৷ একদিন হঠাৎ করেই পরিকল্পনা করে অনলাইনে কালচারাল সাইট নিয়ে কিছু করা যায় কিনা, যেখানে সারাবিশ্বের মানুষ যুক্ত থাকবেন, সে ভাবনা থেকেই কালচারাল ক্লাসিসিস্টের যাত্রা।

বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখের ভার্চুয়াল এক পরিবার। মানুষের প্রতিভা বিকশিত করার এক অনন্য নিদর্শন দেখা যায় গ্রুপটিতে। যেখানে সবাই নিজ আগ্রহে তার প্রতিভা প্রকাশ করছেন।

প্রতিভা বিকশিত করার জন্য নানা সময় আয়োজন করা হচ্ছে নানা প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে দশের অধিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। সারাবিশ্ব থেকে বিনামূল্যে অংশগ্রহণ করেছেন হাজারো তরুণ। স্বীকৃতি পাচ্ছে সেরারা, প্রতিটি আয়োজনে বিচারক হিসেবে যুক্ত থাকছেন দেশের এবং দেশের বাইরের গুণীজনেরা। কালচারাল ক্লাসিসিস্টের সঙ্গে যারা কাজ করছেন, সবাই শিক্ষার্থী।

বর্তমানে ২৬টি জেলা থেকে প্রায় ৩৫০০ এর বেশি তরুণ কাজ করছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২৭টা ক্যাসেল রয়েছে কালচারাল ক্লাসিসিস্টের। ৩০টি দেশ থেকে যুক্ত রয়েছে মানুষ, যারা গ্রুপে প্রতিনিয়ত তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করছেন। ভারত, নেপালসহ আরও কিছু দেশে রয়েছে টিম।

এই প্ল্যাটফর্মের পেছনের মানুষটি জাহিদুল ইসলাম সৈকত। দশম শ্রেণিতে পড়ছে সে। সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘কালচারাল ক্লাসিসিস্ট’। বর্তমানে সারাবিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পাঁচ লাখ মানুষ যুক্ত আছেন জাহিদের প্ল্যাটফর্মে। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। বর্তমানে জাহিদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটিতে সারাবিশ্বের মানুষ তাদের প্রতিভাকে উপস্থাপন করতে পারছেন।

বর্তমান সময়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে কালচারাল ক্লাসিসিস্টকে। এতিমখানায় শিশুদের সঙ্গে কেক কাটাসহ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় নারায়ণগঞ্জে আলোকবর্তিকা। সিলেটে গাছ লাগানো কর্মসূচি আয়োজন করা হয়৷ ঈদের সময়ে চট্টগ্রামে শিশুদের মেহেদী পরিয়ে আয়োজন করা হয় প্রাণোচ্ছল শিরোনামে এক আয়োজন। রংপুর, কুড়িগ্রাম, খুলনা, শরীয়তপুর, ঝালকাঠি জেলায় নানা আয়োজন করা হয়। এছাড়া ঢাকায় পথশিশুদের নিয়ে একদিন রেস্তোরাঁয় গিয়ে চিপস, চকলেট, কেক, ম্যাংগো বার, ওয়েফারসহ নানা খাবার খেয়ে আনন্দ করে তারা।

জাহিদুল বলেন, আমাদের প্ল্যাটফর্মটা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে, এটাই বিশাল অর্জন।

২০১৯ সালে জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে জাহিদুল ইসলাম সৈকত পুরো ঢাকার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান এবং জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে। আইডিয়াল স্কুলের ২০ বছরের গর্ব সায়েন্স ক্লাব ‘ইস্টার্ক’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জাহিদুল ইসলাম সৈকত।