ক্রাউড ফান্ডিং পেতে হলে

রাসেল এ কাউসার

বাংলাদেশে স্টার্টআপ জিনিস টা এখনো শিশু পর্যায়ে রয়েছে। এর কারণ হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা উদ্যোক্তা হবার জন্য উৎসাহ দেয় না। তাই স্টার্টআপ ব্যাপারটা পরিপূর্ণ ভাবে এখন ও খুব একটা বিকশিত হতে পারেনি আমাদের দেশে।

আইডিয়া তো আছে কিন্তু ফান্ডিং এর অভাবে আগাতে পারছেন না? ফান্ডরেইসিং এর রাস্তা গুলো সম্পর্কে জানা নেই? বেশ কয়েকবার পিচিং করেও ব্যার্থ হয়েছেন?

ক্রাউড ফান্ডিং আপনার জন্য একটা সমাধান হতে পারে। আসুন দেখি ক্রাউড ফান্ডিং কি?

নামেই কিন্তু পরিচয়

ভিড় এর ভিতর থেকে ফান্ড খুজে বের করাই হলো ক্রাউড ফান্ডিং। জ্বী একদম ঠিক ই ধরেছেন। ধরুন আপনার ১০ লাখ টাকা দরকার আপনি চাইলে একজন ইনভেস্টর এর কাছ থেকে পুরো টাকাটা নিতে পারেন আবার ১০০ জন ইনভেস্টর এর কাছ থেকে ১০ হাজার করে ও নিতে পারেন। এতে কি হবে জানেন? প্রত্যেক ইনভেস্টর এর টাকার ভাগ কমে আসবে তাই প্রত্যেকের ভাগে রিস্ক ও কমে যাবে। আপনার মাথায় প্রেশার ও কম থাকবে।

মূলত এভাবে ক্রাউড এর কাছ থেকে ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজ করাকেই ক্রাউড ফান্ডিং বলে।

এখানে আমরা মূলত Social Media Platform বা Crowd Funding Site এর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের মাঝে নিজের idea পিচ করে তাদের কাছ থেকে অল্প অল্প ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজ করে এক সাথে বিশাল ইনভেস্টমেন্ট যোগাড় করে ফেলতে পারি।

বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং এখনো খুব একটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। কিন্তু Internationally ক্রাউড ফান্ডিং খুব জনপ্রিয় একটা প্ল্যাটফর্ম। আপনাকে যা করতে হবে বাংলাদেশে বসে থেকে অনলাইনে আপনার idea লিস্টিং করাতে হবে। যদি আপনার আইডিয়া তে দম থাকে তবে তা হাজারো ইনভেস্টর এর টাকায় একটা স্টার্টআপ এ পরিনত হতে ও পারে।

ক্রাউড ফান্ডিং এ মূলত তিন ধরনের ফান্ডিং পাওয়া যায়

1) Donation based Funding – এ ধরনের ফান্ড মূলত সোস্যাল এক্টিভিটি এর জন্য পাওয়া যায় বা কোন রিসার্চ কাজ এর জন্য।

2) Reward based Funding – এখানে ইনভেস্টর দের ভরসা দেয়া হয় যে আপনি যদি সফল হোন তবে যেই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন সেই প্রোডাক্ট এর একটা অংশ ইনভেস্টরদের Reward হিসেবে দেয়া হবে।

3) Equity based Funding- এখানে যারা কন্ট্রিবিউটর তারা ছোট একটা শেয়ার এর মালিকানা পাবে, এবং বছর শেষে বিজনেস লাভ করলে সেই অনুপাতে ডিভিডেন্ড পেয়ে যাবে।

ক্রাউড ফান্ডিং এর সব থেকে বড় লাভ হলো, নরমাল ইনভেস্ট এর ক্ষেত্রে ইনভেস্টর আপনার উপর কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। কোন সিদ্ধান্ত ই আপনি নিজের মতো করে নিতে পারবেন না। কিন্তু ক্রাউড ফান্ডিং এ এই প্রবলেম টা আপনার ফেস করতে হবে না।

সব তো বুঝলাম এবার ক্রাইড খুজে পাবো কোথায়?

Oporajoy, FundSME এবং Platform নামের প্রতিষ্ঠান গুলো ক্লাউড ফান্ডিং নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশে। এছাড়া ও আরো অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যারা আপনাকে ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্ম থেকে ক্লাউড ফান্ডিং ম্যানেজ করে দেয়ার কাজ করে থাকে কমিশনের বিনিময়ে। Truelancer.com হলো এরকম ফ্রিল্যান্সার খুজে পাবার একটা প্লাটফর্ম।

পরিশেষে বলতে চাই, ফান্ডিং এর অভাবে আইডিয়া যেনে না মরে…