খুদে লেখক অমর্ত্য রূপাই এবারও মেলায়

খুদে লেখক অমর্ত্য রূপাই এবারও মেলায়
বই হাতে লেখক অমর্ত্য রূপাই। ছবি: লেখকের সৌজন্যে

খুদে লেখক অমর্ত্য রূপাইয়ের দ্বিতীয় গল্পের বই এসেছে অমর একুশে বইমেলা । বইয়ের নাম- ‘কালিয়াপ্তা কুলাপ্তা কালাপ্তা’। ভিনগ্রহের তিন এলিয়েনকে নিয়ে লেখা গল্পের নামে বইটি নামকরণ করা হয়েছে।

একদিন ভিনগ্রহ থেকে তিন এলিয়েন এসে হাজির পৃথিবীতে। অদ্ভুত দেখতে। তিন চোখ। স্পুটনিকের মতো মুখ। শব্দগুলো দুর্বোধ্য। প্রথমে দেখে ভয় পেল দিপু। পরে সাহস এলো। কথা হলো। তিন এলিয়েনের বিপদ শুনে চমকে গেল ছেলেটি। তারপর-। বাকিটা গল্প পড়লেই বোঝা যাবে।

দ্বিতীয় গল্পটা কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস হতে পারতো। পাঁচ গোয়েন্দা বন্ধু। রহস্যজনক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনই ওদের কাজ। যেমন- একদিন শহরের বড় হীরার দোকানের সবচেয়ে সুন্দর হীরাটা চুরি হয়ে গেল। মারা গেলেন ওই দোকানের ম্যানেজার, মালিকের পিএস। কিন্তু কিছুতেই চোরকে ধরা যাচ্ছিল না। কে এতগুলো মানুষকে মেরে ফেললো, তারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যস, কাজে নেমে পড়লো গোয়েন্দা দল। পরপর বেশ কটি ঘটনার রহস্যও বের করে ফেললো তারা। অবশ্য সে জন্য কম বিপদেও পড়তে হয়নি ওদের। গা ছম ছম করা সব কাহিনী। বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল। গল্পের নাম- দ্য ফাইভ ডিটেক্টিভ।

বন্ধুকে নিয়ে একটি গল্প আছে বইয়ে। গল্পের নাম- ‘বন্ধু কী’। হুমায়ুন ও রাসেল বন্ধু। একই স্কুলে পড়ে। হুমায়ুন ক্লাস ফোরে, রাসেল ফাইভে। রাসেলের বাবা বাজারে মাছ বিক্রি করে। নাম সাইফুল। সবাই সাইফুল মামা বলেই চেনে তাকে। সব সময় মন খারাপ থাকতো ছেলেটার। কিন্তু কেন মন খারাপ থাকে ছেলেটার? এর উত্তর পেতে হলে গল্পটা পড়তে হবে। আর মন খারাপের কারণ জানলে পাঠকেরও মন খারাপ হবে খুব।

একটা ভুতের গল্প-ও আছে। সেই ভুতটাকে কিভাবে আবিস্কার করলো ছেলেপুলের দল, কীভাবে বুদ্ধি করে ভুতের বাসায় গেল- সে কাহিনীই নিখুতভাবে তুলে ধরেছে লেখক। গল্পের নাম- ‘আমরা সাহসী’।

ফুটবল ও ক্রিকেট বেশ বোঝে রূপাই। এই দুটো খেলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক তথ্য ওর মুখস্থ। খেলার কৌশল ও বিশ্লেষনও দারুণ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ফুটবল ও ক্রিকেট নিয়ে দুটি গল্প আছে বইয়ে। পড়লে মনে হবে যেন লেখক নিজেই একজন দক্ষ টিম ম্যানেজার।

এরকম নানা বিষয় ও বৈচিত্রের আটটি গল্প আছে বইয়ে। সবগুলো গল্পই পাঠকদের জন্য বেশ গুছিয়ে উপস্থাপন করেছে লেখক। পড়লে মনে হবে যেন কোন গল্প কথক কোন এক জোস্নারাতে উঠোনে বসে ছেলেপুলেকে একের পর এক গল্প শোনাচ্ছে। গোল হয়ে বসে থাকা শিশুরা কখনো ভয়ে শিউরে উঠছে, কখনোবা রহস্যের শেষ খুজতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে।

সম্ভবত এবারও রূপাই মেলার সবচেয়ে ছোট লেখক। পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে, ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে। এবার মেলায় এসেছে ওর দ্বিতীয় গল্পের বই। প্রথম বই এসেছিল ২০১৯ সালে। বইয়ের নাম- ‘ভূত বলে কিছু নেই’। তখন ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। গল্পগুলো লিখেছিল দ্বিতীয় শ্রেণিতে থাকতে। পেন্সিলে লিখতো। পেন্সিলে লেখা সেই পান্ডুলিপিটাও দারুণ। এবার অবশ্য একটু বড় হয়েছে। কলমে লিখেছে। এই গল্পগুলো চতুর্থ শ্রেণিতে লিখা।

এই বয়সেই লেখা সম্পাদনার ব্যাপারে ভীষণ খুতখুতে লেখক। শব্দ ব্যবহারে ওর একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার কারণে গল্পে কিছু ইংরেজি শব্দ চলে এসেছে। ওর ধারণা এই শব্দগুলো সবাই সাধারণ কথোপকথনে ব্যবহার করি। তাই শব্দগুলো বাংলা করতে দেয়নি। ভূমিকা লেখাও বেশ রপ্ত করেছে রূপাই। ভূমিকার শুরুটা বেশ। হঠাৎ চমকে দেওয়ার মতো।

রঙিন বই। পাতায় পাতায় ছবি। গল্পের কাহিনী ও চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছবিগুলো আঁকা। গল্প পড়তে পড়তে ছবিগুলোর দিকে তাকালে মনে হবে গল্পের চরিত্ররা কথা বলছে। বাঁধাই সুন্দর। প্রচ্ছদ ও অলঙ্ককরণ ভীষন নান্দনিক।

বইটি প্রকাশ করেছে বাবুই প্রকাশনী। তিন এলিয়নের চেহারা নিয়ে প্রচ্ছদ করেছেন লেখক ও চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান। ভেতরে গল্পের সঙ্গে মিল রেখে সুন্দর সুন্দর ছবি একেছেন দুই চিত্রশিল্পী বদরুল ইসলাম ও প্রণব চক্রবর্তী। বইয়ের মূল্য ২০০ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার শিশু চত্ত্বরে। স্টল নম্বর- ৬০১-৬০২।