ডিসেম্বরে সব জেলায় নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বই
নতুন বই। ফাইল ছবি

সারাদেশে ৩৬ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন পাঠ্যবই প্রস্তুত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় নতুন বই পাঠানো শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রাথমিকের ৩০ শতাংশ বই পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে মাধ্যমিকের বই পাঠানোও। আগামী ডিসেম্বরে শতভাগ বই পৌঁছে যাবে বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৬ কোটি নতুন বই প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেগুলো উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবার কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা সম্ভব না হলেও সঠিক সময়ে যাতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেওয়া যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক তৈরিতে প্রেসগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ৩০ শতাংশ বই পাঠানো হয়েছে। নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রাথমিকের শতভাগ বই পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে মাধ্যমিক স্তরের বই তৈরির দরপত্র চূড়ান্ত করতে অনেক সময় বিলম্ব হয়েছে। ফলে এ স্তরের বই তৈরির কাজ শুরু হতে দেরি হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে জেলা পর্যায়ে মাধ্যমিকের বই পাঠানো শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ বই পৌঁছে দেয়া হবে।’

এনসিটিবি থেকে জানা গেছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সোয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৩৬ কোটি বই তৈরি করা হয়েছে। যথাসময়ে বই তৈরির কাজ শেষও করেছে এনসিটিবি। এছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছাতে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।

দেশে ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নতুন বই দিয়ে আসছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের জন্য মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে ২৫ কোটি পুস্তক এবং প্রাথমিক স্তরের জন্য ১০ কোটিরও বেশি কিছু পুস্তক তৈরি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এম মনছুরুল আলম জানান, এ বছর বই উৎসব করা হবে কি না- সেটি নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিলেও আমাদের মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সেটি জানানো হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পুরো বিষয়টি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক জানান, বই ডিসেম্বরের মধ্যে যেন উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছায় সে প্রচেষ্টা আমাদের রয়েছে। আশা করছি, এর ব্যত্যয় ঘটবে না। এনসিটিবি এটি পরিচালনা করছে।