তারুণ্যের ঈদভাবনা

মোঃ ওলিউজ্জামান, যোবায়ের আহসান জাবের, সালাহ উদ্দিন জসিম ও হাবিব জালাল।


নজরুল ইসলাম

কোভিড-১৯ এর মহামারিকালে ঈদুল ফিতর উদযাপনের অপেক্ষায় মানুষ। স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে ইতোমধ্যে বাড়ি পৌঁছেছেন অনেকে। শুক্রবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন তারা। তবে, মহামারি ও অন্য নানা কারণে দেশব্যাপী ঈদউৎসবের আমেজ স্বাভাবিক সময়ের মতো নেই।

সরকারি চাকরিজীবী মোঃ ওলিউজ্জামান বলেন, আমরা এই লকডাউনে কর্মস্থলেই ঈদ উদযাপন করছি। নিজের পরিবারের সাথেই ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। সকলেরই যার যার জায়গা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই ঈদ উদযাপন করা উচিৎ। একই সাথে যার যার জায়গা থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে সকল শ্রেণীর মানুষ ঈদের আনন্দটুকু অনুভব করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদ হোক সকলের।

সাংবাদিক যোবায়ের আহসান জাবের বলেন, ছোটবেলায় ঈদের যে আনন্দ পেতাম, এখন আসলে তা পাই না। গ্রামের ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের পর সবার ঘরে ঘরে গিয়ে মুরব্বিদের সালাম, সেলামি পাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। এখন সে ধারাটি কমে আসছে। আমরা সবাই হয়ে যাচ্ছি যান্ত্রিক। আমার মতে, তথ্যপ্রযুক্তির যত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ ঘটছে ততই উৎসবীয় আমেজগুলো নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান সময়ে ঈদ উৎসব আগের তুলনায় কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ইন্টারনেট, স্মার্টফোনের ব্যবহার। ঈদের দিন যেখানে সবাই পরস্পরের সঙ্গে সম্প্রীতি বিনিময় করার কথা। সেখানে স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকছে তরুণরা। কোথাও কেউ বেড়াতে গেল, কিন্তু সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার বদলে সবাই ফেসবুকে মত্ত হয়ে যায়। ৫ বন্ধুর একসঙ্গে দেখা, কোথাও আড্ডা হবে। সেখানে উল্টো ফেসবুক চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত। অর্থাৎ, এখন আনন্দ বিনোদনের মাধ্যম হয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগত। যার কারণে উৎসবীয় আমেজটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

সৌদি আরব প্রবাসী মহি উদ্দিন শান্ত বলেন, প্রবাসের ঈদ মানে কোনও কেনা-কাটা নেই। আর ঈদের নামাজ পড়ে ঘরে এসে শুয়ে থাকা। তাই ভাবনাটাও ঘুমিয়ে আছে।

চাকরিজীবী হাবিব জালাল বলেন, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। না, এবার সেটা হচ্ছে না! এবারের ঈদ শুন্যতা, না পাওয়ার কষ্ট। পবিবার পরিজনের হাসিমাখা আর আনন্দঅশ্রুর্জিত মায়াবী মুখ। যেদিন থেকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর হবে, সবার মুখে হাসি ফুটবে, প্রকৃত ঈদ আনন্দ হবে সেদিনই।

সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন জসিম বলেন, করোনায় নিরাপদ ও সুস্থ থাকাই বড় ঈদ।