ভাইরাস নিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠা তাসনীম

তাসনীমের ভাইরাস
তাসনীম আকবর ফারুকী ঢাকা বিশ্ববাদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন ছিলো তার।

তাসনীম আকবর ফারুকী ঢাকা বিশ্ববাদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন ছিলো তাসনীমের। সেইজন্য নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিনিয়ত ব্যবসা শেখার চেষ্টা করেছেন। এবার কোভিড মাহামারির সময়ে মানুষের দূর্ভোগের কথা ভেবে মেডিকেল ও সার্জিক্যাল সরঞ্জামাদি বিক্রির মাধ্যমে শুরু করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাইরাস (https://www.facebook.com/iamvirusguard)। সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করা প্রতিষ্ঠান ভাইরাসের ইতিমধ্যে ২০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করতে সমর্থ হয়েছে। নিজের সাফল্য আর প্রতিবন্ধকতার গল্প নিয়ে নাদিয়া মোমেনের সাথে কথা বলেন তাসনীম।

শুরুর গল্প
ভাইরাস নিয়ে যাত্রা খুবই কম সময়ের। করোনাকালীন সময়ে আমরা সবাই যখন আর্থিক দিক থেকে বিপর্যস্ত ছিলাম তখনই আসলে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকে ভাইরাস শুরু করা। করোনা যখন শুরু হলো তখন আমরা খেয়াল করলাম এই মুহূর্তে মানুষের সুরক্ষা ও মেডিকেল সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। কিন্তু এরকম বিপর্যয়ের সময়ে এইসকল জিনিসের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত দাম দিয়েও মানুষ সঠিক এবং মানসম্পন্ন পণ্য পাচ্ছিলো না। আমি নিজেও ভূক্তভোগী। সেই চিন্তা থেকেই মূলত ভাইরাস শুরু করি উৎসাহিত হই। আমরা শতভাগ নিশ্চয়তার সাথে মানসম্মত পণ্য সঠিক দামে মানুষকে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি।

চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকন্ধকতা
একদম শুরুর দিন থেকে আমরা বলে আসছি যে আমারা কোনো নকল বা কপি প্রোডাক্ট কাস্টমারকে সরবরাহ করবো না। আসল পণ্যের সোর্সিং করতে আমাদের প্রায়ই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় এবং সময়ও লেগে যায় মাঝে মাঝে।
আমাদের জানা মতে আমরা এখন পর্যন্ত একটিও নকল বা কপি প্রোডাক্ট কাস্টমারকে বিক্রি করিনি। স্বাভাবিকভাবেই আসল পণ্যে খুব একটা ছাড় দেয়ার সুযোগ থাকে না, যদি না উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাড় না দেয়। কিন্তু বাজারে যখন মানুষ কম দামে কপি প্রোডাক্ট পায় তখন আমাদেরকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। অনেকেই বলেন, আপনারা বলছেন সঠিক দাম নিচ্ছেন, কিন্তু এখানে তো বেশি দাম লেখা।

পণ্য সরবরাহে চ্যালেঞ্জ
মূলত ঢাকার বাইরের পণ্য ডেলিভারিতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। সুন্দরবন বা এসএ পরিবহন ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি যায় কিন্তু কাস্টমারকে টাকা খরচ করে ওদের অফিসে যেতে হয়। আবার যারা হোম ডেলিভারি দিচ্ছে তারা এত বেশি সময় নেয় যে কাস্টোমার বিরক্ত হয়ে যায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভাইরাসকে বাংলাদেশের বেস্ট মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাসনীম। সেই লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত বাজারের পরিবর্তন, মানুষের চাহিদা এইসব বিষয়ে খেয়াল রাখছেন। তাসনীম মনে করেন ব্যবসায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। ফলে ভবিষ্যতে প্রস্তুতি এখন থেকেই নিয়ে রাখতে হবে।

নবীন উদ্যোক্তাদের প্রতি
ব্যবসা করতে গেলে তিনটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত লেগে থাকার মানসিকতা দ্বিতীয়ত পরিশ্রম করা আর সবশেষে কোনো কিছু করার ক্ষুধাটা থাকতে হবে প্রচণ্ডমাত্রায়। এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট করতে হবে। অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে, শক্ত থেকে তা মোকাবেলা করতে হবে।