পিরোজপুরের ব্র্যান্ডিং করবে আদলের ওয়েবসাইট

পিরোজপুরের ব্র্যান্ডিং করবে আদলের ওয়েবসাইট
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর একটি মৎস ও কৃষি নির্ভর জেলা। কৃষকরা নানা রকমের ফসল এখানে ফলায়। তার মধ্যে মাল্টা, মুগডাল, কালোজিরা চাল অন্যতম। পিরোজপুরকে মাল্টার সুবর্ণভূমি বলা হয়। মাল্টা এ জেলার সরকার কর্তৃক স্বীকৃত একটি ব্র্যান্ড।

অন্য দিকে পিরোজপুর একটি নদী বিধৌত জেলা। জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নদী- খাল। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে এই নদীকে কেন্দ্র করে। এদের মধ্যে রয়েছে জেলে সম্প্রদায়, যারা নদীতে ও সাগরে মাছ ধরে, আবার কেউ কেউ রয়েছে, যারা মাছ শুটকি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এর উপর ভিত্তি করে অনেক শুটকিপল্লীও গড়ে উঠেছে এখানে।

এছাড়াও এ এলাকার কিছু মানুষ প্রাচীন কাল থেকে শীতল পাটি শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে। মিষ্টি বাঙালির আপ্যায়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির যেকোনো অনুষ্ঠান মিষ্টি ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। এর মধ্যে রসগোল্লার স্থান সবার উপরে। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এ এলাকার রসগোল্লা ব্যাপক সমাদৃত। প্রবীণ বিশেষজ্ঞদের মতে রসগোল্লার আদি উৎপত্তিস্থল এই পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়।

সম্প্রতি এখানে বাণিজ্যিকভাবে লিচু আবাদ হচ্ছে। এ অঞ্চলের ভাসমান সবজি ক্ষেত পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও জনপ্রিয়। এ জেলা নিয়ে তেমন প্রচার প্রচারণা না থাকার কারণে সবার অগোচরে রয়েছে এ জেলার নানা প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান ও স্থাপনা। পর্যটন শিল্পে যার রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলার ভাসমান পেয়ারা বাগান, পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠী রাজবাড়ি ও শিব মন্দির (কথিত আছে এই মন্দিরে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় কষ্টি শিব লিঙ্গ স্থাপিত আছে), মঠবাড়িয়া উপজেলার দৃষ্টিনন্দন সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি মমিন মসজিদ, যা এখন দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই বিশ্বেরই একমাত্র কাঠের তৈরি মুসলিম স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন, এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নমূল্য বিবেচনা করে ২০০৩ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত পুরাকৃত্তি ঘোষণা দেয়। ইউনিসেফ কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের মসজিদ নিয়ে ৪০০ পৃষ্ঠার এক গ্রন্থে মমিন মসজিদের সচিত্র বর্ণনা রয়েছে। এছাড়াও ভান্ডারিয়া উপজেলার কচা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে হরিণপালা রিভারভিউ ইকোপার্ক।

অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা জন্মগ্রহণ করেছেন এ জেলায় । যাদের মধ্যে কবি আহসান হাবিব, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, মুক্তিযুদ্ধেরর অবিসংবাদিত সৈনিক ৯ নং সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ, খ্যাতনামা সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া, কন্ঠশিল্পী খালিদ হাসান মিলু, শহীদ নূর হোসেন, জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহাম্মেদ, বর্তমান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, বর্তমান মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক মন্ত্রী আনেয়ার হোসেন মঞ্জু এছাড়াও রয়েছেন অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব।

প্রচারের ঘাটতির কারণে এই ইতিহাস-ঐতিহ্যও অপার সম্ভাবনা মানুষের অগোচরেই রয়ে গেছে। দেশ তথা বিশ্বের দরবারে পিরোজপুর জেলার এই ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অপার সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ওয়েবসাইট amarpirojpur.com।

এরই সাথে পিরোজপুর জেলার পণ্যকে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আমার পিরোজপুর.কম ওয়েবসাইটটি। তরুণ উদ্যোক্তা জি এম আদলের হাত ধরে ‘পিরোজপুর জেলাকে ব্র্যান্ডিং করাই আমাদের মূল লক্ষ্য’ এ স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে আমার পিরোজপুর.কম এর যাত্রা শুরু। এটি জেলাভিত্তিক ই-কমার্স ও তথ্যভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট।

পিরোজপুর জেলার সম্ভাবনাময় পণ্য ও শিল্পকে ব্র্যান্ডিং করে পিরোজপুর জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যেই আমার পিরোজপুর.কমের যাত্রা। এই মুহূর্তে এটি পিরোজপুর জেলার একটি তথ্য ভাণ্ডারও বলা চলে। এর মাধ্যমে পিরোজপুর জেলার প্রতিভাবান জ্ঞানী-গুণী আলোকিত সন্তানদের তুলে ধরা হয়। পিরোজপুর জেলার আঞ্চলিক বিখ্যাত পণ্য, শিল্প, কৃষি ও পর্যটন স্থানগুলোকে প্রতিনিয়ত ব্র্যান্ডিং করে যাচ্ছে আমার পিরোজপুর.কম।

বর্তমানে আমার পিরোজপুর.কমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এ অঞ্চলের বিখ্যাত রসগোল্লাসহ এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত অর্গানিক মুগডাল ও শুটকি দেশের নানা প্রান্তে সরাসরি ভোক্তাদের বিপণন করা হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে এবং দেশের নানা প্রান্তের সাধারণ ভোক্তারা তাদের কষ্টার্জিত টাকায় ভেজালমুক্ত পণ্য কিনতে পারছে।

এ জেলার শীতলপাটিসহ কিছু শিল্প বিলুপ্তির মুখে। এই শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমার পিরোজপুর.কম প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা জি, এম আদল স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে আমার পিরোজপুর.কম দেশের অন্যতম একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হবে।

পিরোজপুর জেলার অন্যতম একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার হবে ওয়েবসাইটটি। সারা বিশ্বের মানুষ পিরোজপুর জেলার পর্যটন, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ নানা তথ্য আমারপিরোজপুর.কমের মাধ্যমে জানবে। জেলার শত বেকার তরুণের কর্মসংস্থান হবে আমারপিরোজপুর.কমের মাধ্যমে, এমন স্বপ্নও দেখেন তিনি।

লেখক: সিরাজুম মুনিরা, শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।