প্রবাসীর পাঠানো ল্যাপটপ নিয়ে উধাও, শেষ রক্ষা হলোনা রাজার

জেনারেশন রিপোর্ট

ওমান থেকে এক প্রবাসীর পাঠানো ল্যাপটপ হাতিয়ে পালিয়ে যাওয়া ওমান ফেরত আরেক প্রবাসীর কাছ থেকে সেটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আলাউদ্দিন মাহি জানান, ওমান থেকে তার এক ভাগ্নি জামাই ওমান ফেরত মাসুদ পারভেজ রাজার মাধ্যমে একটি দামী ল্যাপটপ তার জন্য দেশে পাঠান। কথা ছিল দেশে ফেরার দিন এয়ারপোর্ট থেকে ল্যাপটপটি আলাউদ্দিন মাহি নিজেই সংগ্রহ করবেন। মাসুদ পারভেজ রাজা এয়ারপোর্টে নেমে আলাউদ্দিন মাহি বা ল্যাপটপ প্রেরণকারীর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

রাজা ও তার ভাইয়ের মোবাইলে বার বার ফোন দিলেও তারা আলাউদ্দিন মাহিকে নানাভাবে ঘোরাতে থাকে। অস্বীকার করতে থাকে ল্যাপটপের কথা।

পুলিশের এআই‌জি (মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) মো. সো‌হেল রানা জানান, আলাউদ্দিন তার এক বন্ধুর পরামর্শে এ বিষয়টি পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের দৃষ্টিতে আনেন। তার বার্তা পাওয়ার পরপর এ বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে মিডিয়া উইং। জানতে পারে মাসুদ পারভেজ রাজার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানায়।

অভিযুক্তের নাম ঠিকানাসহ বার্তাটি ভেড়ামারা থানার ওসি মো. শাহজালালকে পাঠিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। পরে এসআই দীপন কুমার ঘোষের নেতৃত্বে ভেড়ামারা থানা পুলিশের একটি দল অভিযুক্তের বাড়িতে যায়। পুলিশকে একাধিকবার যেতে হয়েছে রাজার বাড়িতে। পুলিশ দেখে ভয় পেয়ে প্রথমে তার পরিবারের সদস্যরা অস্বীকার করে মাসুদ পারভেজ রাজার দেশে ফেরার কথা। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই মাসুদ পারভেজের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে।

ল্যাপটপটি আলাউদ্দিন মাহিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজ রাজার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ল্যাপটপটি বুঝে পেয়ে আলাউদ্দিন মাহি লিখেছেন, `মাত্র দশ দিনের মধ্যে পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে বের করে আমার ল্যাপটপটি উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে, যা আমাদেরকে অভিভূত করেছে। আমি খুবই আনন্দের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমি এই ল্যাপটপটি ফিরে পেয়েছি। এজন্য আমি ভেড়ামারা থানাসহ বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ পুলিশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।