প্রাথমিক শিক্ষাকে বদলে দিতে তরুণদের ৫টি উদ্ভাবনী ধারণা

প্রাথমিক শিক্ষাকে বদলে দিতে তরুণদের ৫টি উদ্ভাবনী ধারণা

সুষ্ঠু শিক্ষাদান পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে একজন শিক্ষকের শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়। কারণ পাঠদানের কলাকৌশলের অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষাদান পদ্ধতি। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে সক্রিয় করেন এবং তথ্য সরবরাহ ও বিনিময় করেন। সৃজনশীল উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে শিক্ষাদান পদ্ধতি হয়ে ওঠে বিজ্ঞানধর্মী ও সৃজনশীল।

বিজ্ঞানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর পর্যায়ে ১৩টি, মাঠ পর্যায়ে গ্রহণ করা হয় ১৭২টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। যার অনেকগুলোই এরমধ্যে মাঠ পর্যায়ে অবদান রাখতে শুরু করেছে। সারাদেশের ধারণা উদ্ভাবকরা প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যমান পদ্ধতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে সৃষ্টি করছে কার্যকরী ধারণা। ফলে স্থানীয় অংশীজনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়েছে আকর্ষণীয় ও শিশুবান্ধব। বিদ্যালয়ে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। এমনই কিছু উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে ‘আপনার উদ্ভাবনী ধারণা, শিক্ষায় আনবে সম্ভাবনা’—স্লোগান নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং-২০১৮। মেলায় আনীত ৩৭টি উদ্ভাবনী ধারণার মধ্যে ৫টিকে সেরা ঘোষণা করে পুরস্কৃত করা হয়। তরুণদের এই সেরা ধারণাগুলো নিয়েই আজকের  আয়োজন।

আমার স্বপ্ন আমার স্কুল (রঙিন স্কুল)

উদ্ভাবক :মো. শরীফ উল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

সবার অংশগ্রহণে ৫-১০ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য রঙিন ও শিশুবান্ধব পরিবেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প হলো ‘আমার স্বপ্ন আমার স্কুল’। এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো রঙিন স্কুল। ‘রঙিন স্কুল’ এরমধ্যে কুলাউড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সাজানো হয়েছে মনোমুগ্ধকর সাজে।  তাতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে শিশুরা। স্কুলের বাহ্যিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষায়। বিষয়টি এখন জেলার প্রাথমিক শিক্ষায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ক্লাস পার্টি

উদ্ভাবক :মো. ছিদ্দিকুর রহমান

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মাধবপুর

প্রতি মাসে বিদ্যালয়ে দুটি ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস পার্টি হলো শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মৌখিক মূল্যায়ন পদ্ধতি। এখানে প্রত্যেক শিশু পাঠ্যবইয়ের একটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু মৌখিকভাবে উপস্থাপন করে থাকে। ক্লাসপার্টিতে ওই শ্রেণির সব অভিভাবক উপস্থিত থাকেন। তারা তাদের সন্তানদের উপস্থাপনা উপভোগ করেন। এই ক্লাস পার্টির মাধ্যমে শিশুর মৌখিক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়। সবার সামনে উপস্থাপনার ফলে শিক্ষার্থীদের দূর হয় জড়তা তৈরি হয় আত্মবিশ্বাস।

আমাদের বিদ্যালয় আমরাই গড়বো

উদ্ভাবক :মো. আব্দুল আজিজ

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, টাঙ্গাইল

শিক্ষার্থীদের স্কুলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে চাই সুন্দর আকষর্ণীয় বিদ্যালয়। আর তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু স্কুলের শিক্ষক দ্বারা সম্ভব নয়। প্রয়োজন ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক, প্রাক্তণ শিক্ষার্থীসহ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা। মানসম্মত শিক্ষা উপযোগী একটি পরবিশে গড়ে তুলতে এরমধ্যে যে ধারণাটি কার্যকরী ভূমিকা রাখছে, সেটি হলো ‘আমাদের বিদ্যালয় আমরাই গড়ব’। এর আওতাভুক্ত কার্যক্রমগুলো হলো সকলের অংশগ্রহণে নবীনবরণ, মিড ডে মিল চালু, দেয়ালিকা প্রকাশ, কলকাকলি দল গঠন, স্থানীয় অংশীজনের মালিকানা বোধ সৃষ্টি, সু-সজ্জিত আকর্ষণীয় শ্রেণিকক্ষ, মনিপাঠাগার স্থাপন, দুরন্ত সংঘ গঠন, সততা স্টোর স্থাপন। সেরা মা নিবার্চন, কাব জেলা ঘোষণা।

অনলাইনে শিক্ষক ছুটি ব্যবস্থানা

উদ্ভাবক :কে এম সাঈদা ইরানী, শিক্ষা কর্মকর্তা, লালবাগ

শিক্ষকদের ছুটি নিয়ে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রক্রিয়াগত কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মমাফিক ছুটি নিতে সময়ও নষ্ট হয় অনেক। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং সময় বাঁচানোর জন্য ‘অনলাইন ছুটি ব্যবস্থাপনা’ ধারণাটির উদ্ভব। এ পদ্ধতিতে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছুটির আবেদন গ্রহণ এবং মঞ্জুর করা হয়। ফলে শিক্ষকরা আর ছুটি নিয়ে অযথা ঝামেলা কিংবা সময় নষ্ট করতে হয় না।

শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন এবং শ্রেণি রুটিনে তার প্রতিফলন

উদ্ভাবক :কানিজ ফাতেমা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ঈশ্বরদি

এ পদ্ধতিতে বছরের শুরুতেই বিষয়ভিত্তিক সঠিক শিক্ষক নির্বাচন করে ক্লাস রুটিন প্রণয়ন করা হয়। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ২টি বিষয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিবেন। শিক্ষকগণ তাদের পাঠদানের বিষয়ের পাঠ-টীকা, উপকরণ সহকারে পাঠদান করানোর পর সেই অধ্যায়ের শিখনফল শিক্ষার্থীদের অর্জন করাবেন। অধ্যায় শেষে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ণ করবেন। বিষয়ভিত্তিক যে বিষয় বরাদ্দ থাকে না উক্ত বিষয়গুলোর উপর চাহিদা অনুসারে স্থানীয়ভাবে দক্ষ প্রশিক্ষক ( শিক্ষক) দ্বারা যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফল অপেক্ষাকৃত সন্তোষজনক নয়, সে সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মশালার আয়োজন করা হয়।