বাংলাদেশি কিশোর সাদাতের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার লাভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমান
শিশুদের নোবেলখ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমান। ছবি: কিডস রাইটস এর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত

বাংলাদেশি কিশোর সাদাত রহমান শিশুদের নোবেলখ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। ‘সাইবার বুলিং’ থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করার স্বীকৃিতস্বরূপ তিনি এ পুরস্কার লাভ করেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) এক অনুষ্ঠানে সাদাতের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাদাতকে এই পুরস্কার প্রদান করেন। সাদাত ২০১৮ সালে ইয়াং বাংলা আয়োজিত ‌‌’জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে ছিলেন।

সাদাতের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই। অনলাইনে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে সাইবারবুলিং বন্ধ করতে তরুণ, টিনেজ বয়সীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে সাদাত। ‘সাদাত ইন এ ট্রু চেঞ্জমেকার’। সূত্র: এএফপি এবং বিবিসি।

২০০৫ সালে থেকে এই পুরস্কার চালু করে ‘কিডস-রাইটস’ নামের একটি সংগঠন। শিশুদের অধিকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। কিডস রাইটসের বিশেষজ্ঞ কমিটি ৪২টি দেশের ১৪২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সাদাতকে এ বছরের পুরস্কারের জন্য বিজয়ী ঘোষণা করেছে বলে সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাদাত রহমানের বয়স ১৭ বছর। তিনি নড়াইল আবদুল হাই সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশুনা করছেন।

সাইবার বুলিং বন্ধে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি সাদাত ‘সাইবার টিনস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করে। যার মাধ্যমে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা উপকৃত হচ্ছে। ‘কিডস রাইটস’ বলেছে, এই পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে সাদাত একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম পেলো, যা তাকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে পিরোজপুরের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা তাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। সেই থেকে বন্ধুদের নিয়ে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেন সাদাত। সাইবার টিনস অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগী কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগাযোগ সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে সাদাতের অ্যাপ ব্যবহার করছে তার স্থানীয় জেলার প্রায় ১৮০০ টিনেজ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ৬০টির বেশি অভিযোগের মীমাংসা হয়েছে এবং ৮ জন সাইবার অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা যায়।