বিয়ে বন্ধ হলো, খুলে গেলো মেয়েটির জীবনের নতুন দুয়ার

জেনারেশন রিপোর্ট

একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করে তাকে লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে পুলিশ। মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

বাংলা‌দেশ পু‌লিশের এআই‌জি (মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) মো. সো‌হেল রানা জানান, এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। সাভার মডেল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। পড়াশোনা করে বড় হবে এই তার ইচ্ছা। মাঝে বাধ সাধে তার বাবার জেদ। মেয়েকে বিয়ে দেবে। ভালো পাত্র পেয়েছে। তাই, তাড়াহুড়া। সে পড়তে চায়। সে বড় হতে চায়। অনেক বড়। দাঁড়াতে চায় তার মতো অনেকের পাশে। দেশের জন্য কাজ করতে চায়। এই বিয়ে তার সব স্বপ্নকে চুরমার করে দেবে। যেকোনোভাবেই হোক এই বিয়ে তাকে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু, কোনো উপায় চোখে পড়ছে না তার। শত চেষ্টা করেও বাবার সিদ্ধান্ত ঘোরাতে পারেনি সে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার মোবাইল। যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ও বন্ধ।

পুলিশ জানায়, এরই মধ্যে ঘনিয়েছে বিয়ের লগ্ন। এসেছে বিয়ের দিন। বর এসেছে। এসেছেন অতিথিরা। নিশ্চিত পরাজয়ের গ্লানি কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাকে। সন্ধ্যা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে তাকে। চলছে সাজগোজ। সময় নেই হাতে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। চোখে চোখে রাখা হয়েছে তাকে। তবু, এক ফাঁকে এক অতি‌থিকে অনুরোধ করে সে। তার মন গলে। তারই মোবাইল থেকে সহপাঠী এক বন্ধুকে ফোন করে সাহায্য চায়।

মো. সো‌হেল রানা জানান,বন্ধুটি পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুক পেজে জানিয়ে সহায়তা চায়। বার্তাটি পেয়েই মিডিয়া উইং তাৎক্ষণিকভাবে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার ওসি মোঃ আসলাম হোসেনকে বার্তাটি পাঠায়। অভি‌যোগ সত্য হ‌লে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দেয়।

পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বিয়েটা হয়ে যেতে পারে। তাই, কাছাকাছি এলাকার এক জনপ্রতিনিধিকে ফোন করে তার সহায়তা চায় পুলিশ। তিনি ছুটে যান। অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বিয়ে থামান। পুলিশও পৌঁছে যায় কিছুক্ষণের মধ্যে। বিয়েটা থেমে যায়। শুরু হয় তমালিকার নতুন পথচলা।