ভার্চুয়ালে ক্লাসের বাইরে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী : সমীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইনে ক্লাস
অনলাইনে ক্লাস। ফাইল ছবি

দেশে করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। ভার্চুয়ালে টিভি, রেডিওসহ নানা মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হলেও প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে এতে অংশ নিতে পারেনি। বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান ও এডুকেশন ওয়াচের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দূরশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় ৩১.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে আর অংশগ্রহণ করেনি ৬৯.৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০২০-২১’ সমীক্ষার অন্তর্বর্তীকালীন খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের আটটি বিভাগের আটটি জেলা থেকে নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে নমুনা নির্বাচন করে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশে করোনার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে এখনো চলছে সাধারণ ছুটি।

গবেষণার জন্য আট বিভাগের আট জেলা থেকে ২১টি উপজেলা নির্বাচন করা হয়। গত বছরের ৭ থেকে ২২ নভেম্বর এই দুই সপ্তাহের সমীক্ষা তথ্যে দেখা গেছে, ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে দৈনিক গড়ে ৫০ মিনিট দূরশিক্ষণের মাধ্যমে পড়ালেখায় ব্যয় করে। মাধ্যমিক পর্যায়ে তা ৫৫ মিনিটি ও বস্তি এলাকায় গড়ে ৪০ মিনিট। বস্তি এলাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের গড় সময় মাত্র ২৫ মিনিট। শিক্ষার্থীরা দিনে গড়ে ১৮৮ মিনিট বাড়িতে পড়ালেখার কাজে ব্যয় করে। তারা পরিবারের আয়মূলক কাজে গড়ে ব্যয় করে দৈনিক ১৭১ মিনিট।

সমীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দূরশিক্ষণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩১.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, আর ৬৯.৫ শতাংশ অংশগ্রহণ করেনি। তাছাড়া ৩৭.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পরিবার বা অন্যান্যদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৭.৯ শতাংশ ডিভাইসের অভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। আর গ্রামীণ এলাকায় এই হার ৬৮.৯ শতাংশ। তাছাড়া অনলাইন ক্লাস আকর্ষণীয় না হওয়ায় ১৬.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে না। ৯৯.৩ শতাংশ বাড়িতে নিজে নিজে পড়ালেখা করেছে বলে জানায়।

সমীক্ষায় মোট দুই হাজার ৯৯২ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৭০৯ জন শিক্ষার্থী (ছেলে ও মেয়ে সমসংখ্যক), ৫৭৮ জন শিক্ষক (নারী ও পুরুষ), ৫৭৬ জন অভিভাবক (পিতা ও মাতা), ৪৮ জন উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক কর্মকর্তা ও ১৬ জন জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিকের (৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি) ও মাধ্যমিকের (৮ম ও ৯ম শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের জরিপের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের আটটি বিভাগের আটটি জেলা থেকে নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে নমুনা নির্বাচন করে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মহামারির কারণে গবেষণার তথ্য সরাসরি মাঠ পর্যায় থেকে সংগ্রহের বদলে ঢাকা থেকে উত্তরদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রাজধানীসহ গ্রাম পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডুকেশন ওয়াচের প্রধান গবেষক ড. মনজুর আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন, এডুকেশন ওয়াচের গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ ও আহ্বায়ক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী।