যেভাবে আউটসোর্সিং থেকে আয় করবেন

এনাম আহমেদ
২০২১ সালে এসে বেকার শব্দটি একেবারেই বেমানান। এরপরও বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ। আর ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) বলছে, এর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। সংখ্যা যা-ই হোক, বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে নিজেকেই চেষ্টা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে আমরা গ্লোবাল ভিলেজে বাস করি। গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বায়ন কী, এটা বোধকরি নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। যারা বেকার জীবন যাপন করছেন, তাদের নতুন করে মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের লাখ লাখ যুবক আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করছে। আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সেরা ৫-এ। মূল বিষয় হলো পরিকল্পনা। যারা বেকার হয়ে ঘুরছেন, ঘুমোচ্ছেন বা ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করছেন, তারা ৬ মাস ১ বছর সময় দিয়ে আউটসোর্সিং করতে পারেন।

যারা একেবারেই নতুন, তাদের জানা দরকার আউটসোর্সিং কী? সোজাসাপ্টা বললে, আউটসোর্সিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য স্বল্প মেয়াদি বা দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিবদ্ধ হয়। আর যারা আউটসোর্সিং করে, তাদের ফ্রিল্যান্সার বলা হয়। আউটসোর্সিং সাধারণত মুক্তভাবে নিজের ইচ্ছে ও পছন্দমতো জায়গায় যখন খুশি, তখন করা যায়।

এখানে উল্লেখ করা দরকার, আমরা স্থানীয়ভাবে যে কাজগুলো করে থাকি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে, সেগুলোই করা যায় অনলাইনে। যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি, ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট থেকে যাবতীয় কাজ। একবার অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজের ধরন সার্চ করলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে! কারণ, কী কাজ নেই সেখানে!

বিশ্বের প্রথম সারির অনলাইন মার্কেটগুলোর মাঝে www.upwork.com, www.freelancer.com, www.fiverr.com , www.99design.com-এ ফ্রিল্যান্সাররা বেশি কাজ করে। চাইলে একবার মার্কেটপ্লেসগুলো ঘুরে আসতে পারেন। ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা নিমিষেই উধাও হয়ে যেতে পারে।

তবে আউটসোর্সিং করতে চাইলে আমাদের প্রথমে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দরকার, সেটি হলো যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করা। সেটি হতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন বা ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং। হতে পারে অন্য কিছু। পরবর্তী সময়ে সঠিক মার্কেটপ্লেস নির্বাচন করে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়া। এরপর কাজের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করে মার্কেটপ্লেসের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন ফলো করে কাজ পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

কিন্তু যারা একেবারেই নতুন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা পরিচিত কারও কাছে বা কোনো মাধ্যম থেকে শুনে চলে আসেন আউটসোর্সিং করতে। তাদের টার্গেট থাকে যত দ্রুত হোক ডলার ইনকাম করা। যে কারণে কাজের অভিজ্ঞতা থাক বা না থাক, মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলতে উঠেপড়ে লেগে যান। তাদের ধারণা, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুললেই ডলার তাদের কাছে চলে আসবে। এক সময় কোনোভাবে কারও কাছে অ্যাকাউন্ট খুলেই কাজের জন্য যাচ্ছেতাই লিখে বিড করতে শুরু করেন। কাজ না পেয়ে এক সময় আশা ছেড়ে দেন। সঠিক পথে হাঁটতে না পারায় যে তিনি অকৃতকার্য হলেন, এটি বুঝতে চেষ্টা করেন না। আউটসোর্সিংয়ে সফলতা পেতে অবশ্যই অভিজ্ঞতা অর্জন, মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিশদ ধারণা, কাজের প্রতি একাগ্রতা ও কাজ পাওয়ার সিস্টেম জানতে হবে।

তবে আজকাল বিভিন্ন জায়গায় অল্প দিনের মাঝে অল্প টাকায় আউটসোর্সিং শেখার জন্য ‘মাসে ১০/২০/৩০ হাজার টাকা ইনকাম করুন’ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, পোস্টার, লোকাল এরিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়। সতর্ক করতে চাই তাদের, যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন। তারা কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো বিষয়ে কোর্স করার আগে সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিন। অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে, যারা নিজেরাই আউটসোর্সিংয়ে সফল না। যারা নিজেরাই অ্যাডভান্স লেভেলের কাজ করতে পারে না। শুধু টাকা কামানোর জন্য চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে কম্পিউটার কোর্স পরিচালনা করে আসছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার সময় এবং অর্থ দুটোই বরবাদ করবে।