রাজুর গো গ্রিন বাংলাদেশ

গো গ্রিন বাংলাদেশ
গো গ্রিন বাংলাদেশের তৈরি বাঁশের পণ্য

সারাবিশ্বে পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বিরোধী আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প নিয়ে চলছে নানান আলোচনা। ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বিকল্প হিসাবে বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বাঁশের নানান পণ্য। তৈরি করছে রাজুর গো গ্রিন বাংলাদেশ। পরিবেশ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ফজলর রহমান রাজু এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

রাজুর গো গ্রিন বাংলাদেশ বাঁশের তৈরি কলমদানি, ট্রে, চপিংবোর্ড, মগ, বোতল ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করে চলেছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন সবুজ বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্য থাকবে না। মানুষের জীবনের জন্য প্লাস্টিক ক্ষতিকর।

পরিবেশ আন্দোলনের সাথে যুক্ত রাজু প্লাস্টিকের বিকল্প খুঁজতে গিয়েই বাজারে এনেছেন নানন্দিক নকশা যুক্ত বাঁশের পণ্য। তিনি মনে করেন প্লাস্টিক পণ্য থেকে তার পণ্য টেকসই ও শতভাগ পরিবেশবান্ধব।

পেশায় গণমাধ্যমকর্মী রাজু স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের প্রকল্প। রাজুর বাড়ি যশোরে। সেখানের স্থানীয় উপকরণের সাথে প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন পণ্য তৈরি করে চলেছে তার গো গ্রিন বাংলাদেশ (Go Green Bangladesh)।

গো গ্রিন বাংলাদেশের তৈরি বাঁশের পণ্য

ফজলুর রহমান রাজু বলেন, “পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই, মানুষের সামনে প্লাস্টিকের কোন বিকল্প নেই৷ ফলে মানুষ বাধ্য হয়েই প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করে। এই উপলব্ধি থেকে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য ব্যবহারের প্রচার শুরু করি। প্রচারণার এক পর্যায়ে বিকল্প হিসেবে বাঁশের তৈরি পণ্যকে যুতসই আর টেকসই মনে হলো। এভাবেই শুরু করি গো গ্রীন বাংলাদেশ ।

বাঁশের পণ্য নিয়ে রাজু বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি প্লাস্টিকের সমমূল্যে মানুষকে টেকসই বিকল্প পণ্য দিলে মানুষ আর প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করবে না।”

গো গ্রিন বাংলাদেশের কারখানায় বর্তনানে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছে। যাদের অধিকাংশই গ্রামের নারী। পরিবেশ রক্ষায় তারা যেমন ভূমিকা রাখছেন, তেমনি আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাঁশ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে একেবারে শেষ ধাপ পর্যন্ত সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। যারা স্থানীয় পর্যায়ে বাঁশ নিয়ে কাজ করেন।

রাজু বলেন, “পরিবেশবান্ধব পণ্য নিয়ে কাজ করা খুবই ঝুকিপূর্ণ। একদিকে এটা সম্ভাবনাময়। অপরদিকে ব্যয়বহুল৷ পণ্যকে প্লাস্টিকের চেয়ে কম দামে মানুষের হাতে পণ্য তুলে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বাজারজাত সম্পর্কে তিনি জানান, আমাদের লক্ষ্য হলো বিশাল অংশের মানুষকে এই কাজে যুক্ত করা। যে কারণে আমরা সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে না গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে যাচ্ছি৷ যারা পণ্য বিক্রয় করতে গিয়ে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী হিসাবে তৈরি হচ্ছেন।