শিক্ষার্থীদের বাতিঘর ‘সিলসা’র চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ

চতুর্থ বর্ষে স্বেচ্চাসেবী সংগঠন সিলসা

একজন শিক্ষার্থী যখন নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয় তখন তাকে একটি নির্দিষ্ট বিভাগ বেছে নিতে হয়। সিদ্ধান্ত নিতে হয় ভেবেচিন্তে। স্বাভাবিক ভাবেই ওই বয়সে একজন শিক্ষার্থী এতোটা পরিণত থাকে না। অনেক সময় তার পরিবারেও এমন কেউ থাকে না, যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিতে তাকে সাহায্য করতে পারে। এরকমভাবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ভোগে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে। এইচএসসি এসএসসিসহ শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের পর তাদের ভুগতে হয় দ্বিধাদ্বন্ধে, অনেকগুলো বিকল্পের মাঝে কোনটি তারা নেবে, কিংবা কোন পথটি বাছাই করলে তারা তাদের মনের সুপ্ত গন্তব্যটিতে পৌছাতে পারবে।

এই সমস্যাটি উপলব্ধি করে এগিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তিন বছর আগে তারা গড়ে তোলেন একটি স্বেচ্চাসেবী সংগঠন ‘SILSWA’, যেটির উদ্দেশ্যে একটি বৃহৎ স্টুডেন্ট কমিউনিটি গড়ে তোলা; যেখানে শিক্ষার্থীরাই নিঃস্বার্থভাবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, নোটস, টিউটোরিয়ালস সহ সকল ধরণের একাডেমিক এবং সামাজিক সহায়তা প্রদান করবে।

ইতোমধ্যে সিলসা পেরিয়ে এসেছে তিনবছরের পথ। সিলসা এখন শিক্ষার্থী সমাজে বহুল পরিচিত এবং জনপ্রিয় নাম। বছরের প্রতিটা দিন ইন্টারনেট এবং মাঠপর্যায়ে চলছে সিলসার নিরলস কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের বিভাগ নির্বাচন, কলেজ ভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিনিয়ত দেয়া হচ্ছে দিকনির্দেশনা। পাশাপাশি ফেসবুক গ্রুপ ও ইউটিউবের মাধ্যমে এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুকদের পড়াশোনায় সাহায্য করে যাচ্ছে সিলসা। অনুপ্রাণিত করছে লেখালেখি, সাহিত্য ও শিল্পসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে। বছর জুড়ে সেজন্য সিলসা আয়োজন করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও সিলসার সাথে যুক্ত হয়ে পাচ্ছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বর্তমানে সিলসার সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শতাধিক শিক্ষার্থী। যুক্ত আছেন সিলসার হাজারো স্কুল কলেজ প্রতিনিধি। তারা সহপাঠীদের নিকট সিলসার সেবা পৌছাতে ভূমিকা রাখেন। এই করোনা পরিস্থিতিতে যখন শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির, সিলসা তখন এগিয়ে এসেছে শিক্ষার্থীদের জন্য লাইভ ক্লাস, ক্যারিয়ার টকশোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে।

সিলসার সাথে জড়িতরা জানান, দেশ ও সমাজের প্রতি কিছু করার দায়বদ্ধতা থেকেই সিলসার গড়ে ওঠা। সিলসা স্বপ্ন দেখে একটি সুষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থার। যেখানে সবাই শিখার জন্য পড়বে এবং নিজেকে ছড়িয়ে দেবে সমাজের প্রয়োজনে। সিলসায় বর্তমানে কাজ করছেন, এমন অনেকেই আছেন যারা মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে সিলসার সেবা পেয়েছেন। সিলসার দিকনির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যুক্ত হয়েছেন সিলসার সাথে, যাতে আরো বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সহযোগিতা পেতে পারে। বর্তমানে কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন সিলসার সহযোগিতা। শীঘ্রই সিলসা পদার্পণ করছে সাফল্যের চতুর্থ বর্ষে। সংগঠকরা স্বপ্ন দেখেন সিলসা পৌছে যাবে দেশের আনাচেকানাচে, পাশে দাঁড়াবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে।