শিক্ষার্থীরা পরিমার্জিত পাঠ্যবই পাবে ২০২৩ সালে

জেনারেশন ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতির কারণে পরিমার্জিত কারিকুলামে ২০২২ সাল থেকে পাঠ্যবই হাতে পাচ্ছে না প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। এই বছর প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই পাইলটিং করা হবে। ২০২৩ সালে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই তিন শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবার পরিকল্পনা নেওয়া হয় ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। করোনার কারণে এই পরিকল্পনা পিছিয়ে ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগের পরিকল্পনায় ২০২২ সালে প্রথম, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই পাওয়ার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। এছাড়া এ বছর প্রাক-প্রাথমিকের ৪ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ পিছিয়ে যায়।

গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই পাইলটিং করা হবে। প্রাথমিকের ১০০টি বিদ্যালয়ে এবং মাধ্যমিকের ১০০টি বিদ্যালয়ে পাইলটিং করা হবে। একইসঙ্গে ১০০টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাইলটিং করা হবে এই পরিমার্জিত পাঠ্যবই। এরপর ২০২৩ সালে সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। আর ২০২৪ সালে কোন কোন বই পরিমার্জন করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে তা এখনও ঠিক করা হয়নি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন কারিকুলামে পাঠ্যবই কমানো হবে। তবে পাঠ্যবই কমলেও গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ই থাকবে পাঠ্যবইয়ে। এখন পর্যন্ত কতটি বই এবং কোন বই কমানো হবে তা চূড়ান্ত হয়নি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই পাইলটিং করা হবে। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের রেজুলেশন এখনও হাতে পাইনি। ’

কোন পাঠ্যবই কতটি কমবে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কারিকুলামের ফ্রেমওয়ার্ক এখন অনুমোদন হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ’

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, ‘পাইলটিং শেষ করে ২০২৩ সালে সারাদেশে এই তিন শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীরা হাতে পাবেন।’

২০২৪ সালে কোন কোন বই শিক্ষার্থীরা পাবেন তা জানতে চাইলে ড. মশিউজ্জামান বলেন, ‘এখনও তা ঠিক হয়নি।’
উল্লেখ্য, সর্বশেষ কারিকুলাম পরিমার্জন করা হয় ২০১২ সালে। ২০১৩ সাল থেকে ওই পাঠ্যবই হাতে পায় শিক্ষার্থীরা। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর কারিকুলাম পরিমার্জন করা হয়। তবে এবার ১০ বছর পর পরিমার্জন করা হচ্ছে।