সফল হতে ক্যারিয়ার গড়ার আগে পরিকল্পনা করুন

এনাম আহমেদ

সত্যি কথা বলতে আমাদের অনেকেরই ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে গেলে চারপাশের সবকিছু যেন ঘুরতে থাকে। মগজটাই আলুথালু হয়ে যায় যেন। মফস্বল শহরের যেসব ছেলে মেয়ে স্থানীয় কলেজের জেনারেল সেকশনে পড়াশোনা করে এক সময় গিয়ে তাদের এই অবস্থাটা প্রকট হয়। কারণ তারা যে কোন সাবজেক্টে পড়াশোনা করে একটি সার্টিফিকেট অর্জন করতে চায়।

শিক্ষাজীবনে তারা জানে না তারা আসলে ক্যারিয়ার কি নিয়ে গঠন করবে। পড়াশোনা শেষ করে যে কোন একটা চাকুরী জুটিয়ে নেবো- অধিকাংশের মনেই এরকম একটি বিষয় গেঁথে থাকে। অপরদিকে টেকনিক্যাল সেক্টর থেকে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা যে সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে তারা নিশ্চিত থাকে তাদের সেই সাবজেক্টের উপরেই ক্যারিয়ার গঠন হবে।

জেনারেল সেকশন আর টেকনিক্যাল সেকশন যেটাই হোক না কেন সফল ক্যারিয়ার গঠন করতে হলে অবশ্যই প্রত্যেককেই পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। কারণ প্রত্যেকেরই ক্যারিয়ার নিয়ে পছন্দ এবং অপছন্দ থাকতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ক্যারিয়ার নিয়ে যে ভালো কিছু করা যাবে না এটা বলা বাহুল্য। ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনার সময় আমাদের বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত, যেমন- এখানে পছন্দের বিষয়টি প্রথমে স্থান পেতে পারে। এরপর ক্যারিয়ারের লক্ষ্য। লক্ষ্য নির্ধারণের পর যদি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে সেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে ক্যারিয়ারের কোন পর্যন্ত এগোতে পারবেন এ ধরণের চিন্তার অভ্যাস করতে হবে। এরপর ক্যারিয়ার নিয়ে যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্য অর্জনে আরো কি কি করার থাকতে পারে এরকম সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা।

খুব ঠান্ডা মাথায় কিছুক্ষণ সময় দিন নিজেকে। এরপর খাতা কলম বের করুন। আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী সেই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন। আপনি চাইলে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন এভাবে- ক্যারিয়ার বাছাই ও আপনার আগ্রহের জায়গা আপনি কেমন ক্যারিয়ার চান, সেটি ঠিক করেছেন কি? উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ ক্যারিয়ার ঠিক করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। ক্যারিয়ার বাছাই করার জন্য কারো পরামর্শ নিচ্ছেন কি? উত্তর যদি “হ্যাঁ” হয়, তাহলে পরামর্শের মান নিয়ে চিন্তা করুন।

যিনি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছেন, তার কাজের ক্ষেত্র আপনার ঠিক করা ক্যারিয়ারের সাথে যায় কিনা, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে মেন্টরের সাহায্য নিন। ক্যারিয়ার বাছাই করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় জড়িত থাকে। তাই এ সিদ্ধান্ত নেবার সময় সেগুলোর কথা মাথায় রাখুন। দক্ষতা ও জ্ঞান বাছাই করা ক্যারিয়ারের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা আপনার আছে কি? উত্তর যদি “হ্যাঁ” হয়, তাহলে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার একটি তালিকা তৈরি করে খোঁজ খবর নিয়ে সঠিক জায়গা থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করুন।

আমাদের অধিকাংশেরই ক্যারিয়ারের শুরুতে অভিজ্ঞতা থাকে না। অথচ এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চাকরিগুলোতেও অভিজ্ঞতা চেয়ে বসে। যে কারণে কাজের অভিজ্ঞতার অভাবে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই ফুলটাইম কোথাও ক্যারিয়ার গড়ার আগে বাছাই করা ক্যারিয়ারে পার্ট-টাইম চাকরির সুযোগ খুঁজুন। সম্ভব হলে ইন্টার্নশিপ করে নিন। এটা আপনার অনেক কাজে দেবে।

ইন্টারভিউ হলো একজন ব্যক্তির আভ্যন্তরীণ দর্শন। যিনি বা যারা ইন্টারভিউ নেন তারা যিনি বোর্ডে এসেছেন তার আভ্যন্তরীণ দর্শনটাই বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চান। সুতরাং ইন্টারভিউয়ের আগে আপনার বাছাই করা ক্যারিয়ারের ইন্টারভিউ কেমন হয় সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিন। এরপর নিজেকে দক্ষ করে গড়ুন। আর যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গভীর ধারণা নেবেন এরপরই ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রবেশ করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, আপনি নার্ভাস সেটি তারা যেন বুঝতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকুন। মধ্যম আওয়াজে পরিচ্ছন্ন কণ্ঠে তাদের সাথে কথা বলুন। আপনি যে তাদের সামনে সহজে কথা বলতে পারবেন এটা তাদের বুঝতে দেওয়ার জন্য ইন্টারভিউয়ের ফাঁকে তাদের দু’ একটি প্রশংসা করুন। এতে আপনার ইন্টারভিউ সহজ হবে।