সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে যেভাবে জিপিএ-৫ পেল শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ থেকে খুলছে স্কুল-কলেজ

করোনা ভাইরাসের বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হয়েছে জেএসসি ও এসএসসির ফল মূল্যায়নের মা্ধ্যমে। এতে দেখা যাচ্ছে, ১৭ হাজার ৪৩ শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলেও এবারের মূল্যায়নের ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর ওই দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও এবার পূর্ণাঙ্গ জিপিএ হারিয়েছেন ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। এমনটা হয়েছে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের জন্য।

শনিবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্টসহ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি।

নিচের দুই পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা এবারের এইচএসসির ফলাফলে সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। গতবার অর্থাৎ ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। তার আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ২৬২।

কীভাবে সাবজেক্ট ম্যাপিং করা হয়েছে

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ৭৫ শতাংশ বিবেচনা করে এইচএসসিতে আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞান বিভাগ

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞান বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞান বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ

এই বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ ও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক তিনটি সমগোত্রীয় বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসির ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের তিনটি সমগোত্রীয় বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানবিক ও অন্যান্য বিভাগ

মানবিক ও অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক পর পর তিনটি বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভাগ (গ্রুপ) পরিবর্তন

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জানায়, বিভাগ (গ্রুপ) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক পর পর তিনটি বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকে অকৃতকার্য-এর ফল উন্নয়ন

আংশিক বিষয়ের (এক বা একাধিক বিষয়) এবং ফল উন্নয়নের জন্য পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অকৃতকার্য-এর বিষয়ের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রেও ওপরের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।

জিপিএ-৫ পাওয়া-না পাওয়া

জিপিএ-৫ এর বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মঞ্জুরুল কবীর বলেন, ‘আগের দুই পরীক্ষায় যারা চতুর্থ বিষয়ের জিপিএ মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ এবার পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাননি।’

তবে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও ২০১৭ সালে ১৭ হাজার ৩৭১ জন, ২০১৮ সালে ৫২ হাজার ৬৩৪ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৫ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

এদিকে জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়নি এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৭ সালের এইচএসসিতে ৬ হাজার ৯৭৬ জন, ২০১৮ সালে ৪ হাজার ১৫৭ জন এবং ২০১৯ সালে ৮ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

যদি এই সাবজেক্ট ম্যাপিং এর ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি সন্তুষ্ট না হলে তারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সংক্ষুব্ধ হলে রিভিউ চেয়ে আবেদন করতে পারবে।’