সুমাইয়ার সাজের হাট

সুমাইয়ার সাজের হাট

করোনা মহামারির সময়ে আর দশজন তরুণের মতো হতাশায় না ভোগে, সময়টাকে কাজে লাগিয়েছেন সুমাইয়া আক্তার। শুরু করেছেন নিজের ব্যবসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানান, সবসময়‌ই ইচ্ছা ছিলো নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। পড়াশুনা পাশাপাশি ভাবছিলাম কিভাবে শুরু করবো, কবে শুরু করবো। করোনার সময়ে ক্লাস বন্ধ থাকায়, ভাবলাম এই সময়টা কাজে লাগানো যায়। এভাবেই শুরু সাজের হাট।

সাজের হাটের মাধ্যমেই সুমাইয়া উদ্যোক্তা হবার পথে পা বাড়ালেন। তিনি বলেন, মনে মনে প্ল্যান ছিলো কিন্তু ভেবেছিলাম আরেকটু গুছিয়ে শুরু করবো। চাকরি থেকে বরাবরই আমার ব্যবসায়ের প্রতি আগ্রহ বেশি ছিলো। তাই ভাবলাম শুরুটা করা যাক। সুমাইয়া মনে করেন ব্যবসায় মূলত চাহিদার সঠিক যোগান। শিক্ষার্থীরা সাধারণত একটু কম দামে ভলো পণ্য নিতে চান। বাজেট ফ্রেন্ডলি বেস্ট প্রোডাক্ট তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমেই আমার ব্যবসায় শুরু। সাজের হাটের অধিকাংশ ক্রেতা মূলত শিক্ষার্থীরা। আর ওয়ান পিস, থ্রী-পিস, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কানের দুল এসব পণ্যের চাহিদাই বেশি সাজের হাটে।

তবে শুরুতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে সুমাইয়াকে। ফেসবুক পেইজ তৈরি করার পর, নতুন পেইজে লাইক কম, আর এই অবস্থায় ক্রেতাদের আস্থা বা বিশ্বাস অর্জন করাটাই ছিলো সবচাইতে বড় চ্যালেন্ঞ্জ। বর্তমান বাজারে অনেক ফ্রড রয়েছে বলে জানান সুমাইয়া। ক্রেতাদেরকে এটা বিশ্বাস করাতে অনেক সময় দিতে হয়েছে। তাদের বুঝাতাম যে আমি ফ্রড না। পেইজ ছোট হ‌ওয়ায় কেউ বিশ্বাস করতে চাইতো না শুরুর দিকে। কিন্তু সার্ভিস পেয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা।

বড় একটা আউটলেট দেয়ার স্বপ্ন দেখেন সুমাইয়া। সাজের হাট হবে সকলের আস্থার নাম এমন স্বপ্ন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে সুমাইয়ার পরামর্শ, কারো কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে জেনে বুঝে কাজ শুরু করবেন। পণ্যেন দাম নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কেনার সময় কোথায় কম দামে গুণগত পণ্যটি পাবেন সেই বিষয়টি যাচাই করে নিতে হবে।

সাফল্যের মাঝে এখনো সুমাইয়া পণ্য ডেলিভারি নিয়ে সমস্যায় পড়েন বলে জানান। বার বার কল করতে হয়, পণ্য ঠিক ত্রেতা পাচ্ছেন কি না, গুণগতমান মান ক্রেতার চাহিদামতো হলো কি না সব বিষয়ই খেয়াল রাখতে হয়। সময় মতো ক্রেতার পণ্য পেলো কি না এটাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতার সন্তুষ্টিই সাফল্যের বড় নিয়ামক।

সুমাইয়া তার কাজের জন্য ডিবিসি গ্রুপে ডিপার্টমেন্ট এম্বাসেডর নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যবসায়ের পরিধিও বাড়ছে দিন দিন। এসবই তার প্রাপ্তি এবং প্রেরণা। সুমাইয়া জানান, তিনি নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন। নতুন নতুন বিষয় ভাবতে পছন্দ করেন। সব কিছুর সমন্বয়ে আগামীদিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেই কাজ করে যাচ্ছেন সুমাইয়া এবং তার https://www.facebook.com/shajerhatbysumaiyahasib/