হাসানুজ্জামানের ইয়েল একটি ভিন্ন উদ্যোগ

ইংরেজি মাধ্যম স্কুুল মানেই বিত্তশালীদের ব্যাপার। বিশেষকরে যারা বিদেশে লেখাপড়া করতে যাবে তাদের জন্যই মূলত এসব স্কুুল। অনুরূপ এসব স্কুুলে পাশ্চাত্যের কালচার তথা শিক্ষাই মূলত দেওয়া হয়। ইত্যাদি অনেক অভিযোগ এসব স্কুুলের বিরুদ্ধে। কিন্তু আন্তর্জাতিকমানের জিসিই বা আইজিসিএসই কারিকুলামের এসব স্কুুলে যে মানসম্পন্ন সৃজনশীল শিক্ষার অবাধ সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়টি অনেকেই অবগত নন। অবগত হবেই বা কী করে, এসব স্কুুলের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই পাড়ি জমায় দেশের বাইরে। কিন্তু হাতে গোনা যে কজন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করে টিকছে এবং অনার্স, মাস্টার্সেও অত্যন্ত ভালো করছে, তাদেরকে দেখলে এটা বোধগম্য হয়। তবে সমস্যা মূলত ইংরেজি মাধ্যম স্কুুল ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে মধ্যবিত্তরা চাইলেও এসব স্কুুলে সন্তানকে পড়াতে পারছেন না। তাই নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক অথচ সাশ্রয়ী এক ভিন্ন ঘরানার ইংরেজি মাধ্যম স্কুুল প্রতিষ্ঠা করেন একসময়ের শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা মরহুম মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে এমন এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুুল প্রতিষ্ঠার, যেখানে গুণগতমানের উন্নত শিক্ষার পাশাপাশি থাকবে মানবীয় গুণাবলি অর্জনের আদর্শিক তথা নৈতিক শিক্ষা। আর এই লক্ষ্যে তিনি ২০০০ সালে উত্তরায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইয়েল ইন্টারন্যাশনাল স্কুুল’। যেখানে রয়েছে প্লে থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত পড়ার চমত্কার সুযোগ। কয়েকজন মাত্র ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু করা এই স্কুুলে এখন একাধিক ভবনে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের অবাধ সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার বাইরেও সমৃদ্ধ হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক বাস্তবভিত্তিক সৃজনশীল শিক্ষায়। খবিরুজাজমানের মৃত্যুর পর পরিচালক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রতিষ্ঠানটিকে সেরা স্কুুলগুলোর কাতারে উন্নীত করে বাবার দেখানো পথ ধরেই অপেক্ষাকৃত সীমিত ব্যয়ে পড়াশোনার সুযোগ অব্যাহত রেখেছেন। নামীদামি স্কুুলগুলো রাশভারি অবকাঠামো ও বিভিন্ন খাতে অনেক ব্যয় ধার্য করে থাকে। যেমন, স্মার্ট ক্লাস ও ইউরোপ-আমেরিকায় স্টাডি ভিজিট ইত্যাদি। ইয়েলে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে যতটুকু প্রয়োজন তার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যয় না থাকায় তারা শিক্ষার মান ঠিক রেখেও তুলনামূলক কম খরচ নিচ্ছে। আপনি সচেতন থাকলে এসব স্কুুল থেকেও আপনার সন্তান উপযুক্ত শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। ইয়েলে আছেন একদল অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী এবং খোলামেলা পরিবেশে পাঠদানের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে প্লে গ্রুপসহ সিনিয়র সেকশনের পৃথক একাডেমিক ভবন ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণে সজ্জিত শ্রেণিকক্ষ। পাশাপাশি গড়ে তোলা হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আধুনিক সায়েন্স ও কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি এবং যাতায়াতের স্কুুল বাস। এখানকার পাঠদান কৌশল শিক্ষার্থীদের মাঝে গড়ে তোলে পাঠের আগ্রহ তথা কৌতূহল। বিশেষ করে শিশু শ্রেণিতে আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে খেলাচ্ছলে পড়ার এক ভিন্ন পরিবেশ এখানে সৃষ্টি করা হয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় দিবসগুলোতে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি, শিক্ষাসফর তথা শিক্ষামূলক কার্যক্রম। পাশাপাশি এখানে রয়েছে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অবাধ সুযোগ।

ইয়েলের বিগত দিনের ফলাফলও বেশ ঈর্ষণীয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় এদের রয়েছে রেকর্ড ফলাফল। এবং এই হার প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভালো ফলাফলের জন্য এদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বছরব্যাপী পাচ্ছে ডেইলিস্টার অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি। তবে ফলাফলের চেয়েও এদের আগ্রহ তথা সন্তুষ্টি শিক্ষার্থীদের মানবীয় গুণাবলি সম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে। রাজধানীর উত্তরায় ৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ইয়েল সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৫ ১৬৩৬৮০৫ নম্বরে। অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ে গুণগত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে ইয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘কোয়ালিটি এনশিউর করতে হলে ব্যয় বাড়বে এটা স্বাভাবিক, তবে চেষ্টা করলে শিক্ষার গুণগত মান অক্ষণ্ন রেখেও ব্যয় সাধ্যের মধ্যে রাখা সম্ভব। আমরা নিরন্তর এই চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছি।’